আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস যথাযথভাবে উদযাপন দৈনিক মাতৃভাষা


admin@123 প্রকাশের সময় : ফেব্রুয়ারী ২২, ২০২৪, ১:৪৭ অপরাহ্ন /
আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস যথাযথভাবে উদযাপন দৈনিক মাতৃভাষা

২১ ফেব্রুয়ারি বাংলা ভাষার মানুষের জন্য একটি বিশেষ দিন। ১৯৫২ সালের এ দিনে বাংলা ভাষার জন্য প্রাণ দিয়েছিলেন আবুল বরকত, আবদুল জব্বার, আবদুস সালামসহ নাম না জানা অনেকেই। তাদের শ্রদ্ধা জানাতে ২১ ফেব্রুয়ারি বারোটা এক মিনিট ও ভোরে খালি পায়ে শহীদ মিনারে গিয়ে ফুল দিয়ে শুরু হয় দিনটি।

বাংলাদেশ সহ সারা বিশ্বে বাঙালিরা একুশে ফেব্রুয়ারি ভাষা দিবস পালন করেন, এই অমর একুশের ভাষা  দিবস’কে ঘিরে দেশ-বিদেশ থেকে নানান ভাষার মানুষ অমর একুশ বাংলা ভাষাকে শ্রদ্ধা জানাতে শহীদ মিনারে আসেন।

প্রভাতফেরীর গান ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি, আমি কি ভুলিতে পারি/ছেলে হারা শত মায়ের অশ্রু, গড়ায়ে ফেব্রুয়ারি আমি কি ভুলিতে পারি/আমার সোনার দেশের, রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি’ আমি কি ভুলিতে পারি।।  প্রভাতফেরীর সময় বাজতে থাকে অমর একুশে ফেব্রুয়ারীর স্মৃতি বিজড়িত এই গানটি, গানটি লিখেছেন সাংবাদিক ও লেখক আবদুল গাফফার চৌধুরী।

২১ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ সহ সব বাংলা ভাষা ব্যবহারকারী জনগণের গৌরবোজ্জ্বল একটি দিন অমর একুশে ফেব্রুয়ারী। এটি শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবেও সুপরিচিত। বাঙালির ভাষা আন্দোলনের মর্মন্তুদ ও গৌরবোজ্জ্বল স্মৃতিবিজড়িত এই দিনটি একটি বিষেস দিন হিসেবে চিহ্নিত হয়ে আছে। ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ বাঙালি জাতির প্রাণের ভাষা বাংলা ভাষা তাই ধর্ম-বর্ণ, দল-মত, উপেক্ষা করে শহীদ মিনারে স্মৃতি স্মরণে পুষ্প অর্পণ করেন এবং সালাম শ্রদ্ধা জানান দেশের সর্বস্তরের জনগণ।

বাংলা ভাষার আন্দোলন শুরু হয় ১৯৪৭ সাল থেকে ৫৬ সাল পর্যন্ত তৎকালীন পূর্ব বাংলায়।। বর্তমান যেটি বাংলাদেশ নামে পরিচিত,,, মূলত ১৯৫২ সালের হিসেবে পাকিস্তানের সংখ্যাগরিষ্ঠ বেশির ভাগ নাগরিক ছিল বাঙালি,,, যার মোট সংখ্যা নাগরিক ছিল ৫৪ শতাংশ বাঙালি,,, ওই শালের একুশে ফেব্রুয়ারি আট,ই ফাল্গুন উর্দুকে জাতীয় ভাষা করতে চাওয়ায় বাঙালি ছাত্ররা প্রতিবাদে সোচ্চার হয়ে ওঠে।

আমাদের মায়ের ভাষা বাংলা ভাষা, আমাদের বাংলা ভাষাকে বিলম্বিত করতে দেব না এমন চিন্তা ভাবনায় বাঙালিরা সোচ্চার থাকেন ১৯৫২ সালের সকাল ৯ টার দিকে ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে জ্বরও হতে থাকে, ছাত্ররা, স্বসস্র পুলিশ বেষ্টিত ছিল ক্যাম্পাসে, সে সময়ে উপচার্য এবং অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বেলা শোয়া ১১ টার দিকে ছাত্ররা বিশ্ববিদ্যালয়ের গেটে জড় হয়ে প্রতিবন্ধকতা ভাঙ্গার চেষ্টা করেন। ছাত্রদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ ধাওয়া দেয় তখন ছাত্রদের একটি দল ঢাকা মেডিকেল কলেজের দিকে অগ্রসর হওয়ার সময় বাকি ছাত্ররা পুলিশ বেষ্টিত ক্যাম্পাসে মিছিল করে, ওই সময় পুলিশ ছাত্রদের উপর গুলি বর্ষন করার প্রস্তুতি কালে উপাচার্য তখন পুলিশকে গুলি চালানো বন্ধ করতে বলেন এবং ছাত্রদের এলাকা ছাড়তে আদেশ দেন,,,ছাত্ররা চলে যাওয়ার সময়ে পুলিশ,, ১৪৪ ধারা লঙ্ঘনের দায়ে কিছু ছাএকে আটক করেন। গ্রেফতারের সংবাদ পেয়ে বিক্ষুব্ধ ছাত্ররা পুর্ব বাংলা গণপরিষদ ভবন অবরোধ করেন এবং সেখানে তাদের প্রস্তাব উপস্থাপনা করে দাবি জানান।

গণপরিষদ ভবনে ছাত্রদের একটি দল ভবনে এর মধ্যে ঢোকার চেষ্টা কালে পুলিশ গুলি চালায়। তাতে প্রাণ হারায় বাংলাদেশের দামাল ছেলেরা। সালাম, জব্বার,, বরকত ও শফিউল আলম,৷ এভাবেই তাজা প্রাণের রক্তের বিনিময়ে,অর্জিত বাঙ্গালি জাতির প্রানের ভাষা বাংলা মাতৃভাষা,,,তাই এই দিনে আত্বদান কারী সকল শহীদদের ঘিরে শত আয়েজন, শ্রদ্ধা নিবেদন পুস্প অর্পন করেন সর্বস্তরের ছাত্ররা ও জনগণ,,আমরা কোনদিন তেমাদের ভুলব না।

রিপোর্টঃ শাহিদা আক্তার পাখি দৈনিক মাতৃভাষা

শাহাবাগ শহীদ মিনার প্রাঙ্গন ঢাকা।