সীমান্তে নাগরিক হত্যা ও আভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে ভারতের হস্তক্ষেপ বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি: যুব অধিকার পরিষদ


admin@123 প্রকাশের সময় : এপ্রিল ৬, ২০২৪, ৫:৪৩ পূর্বাহ্ন /
সীমান্তে নাগরিক হত্যা ও আভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে ভারতের হস্তক্ষেপ বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি: যুব অধিকার পরিষদ

ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী কর্তৃক হত্যাকান্ডের শিকার বাংলাদেশী নাগরিকদের স্বরণে আলোচনা সভা ও ইফতার মাহফিল আয়োজন করেছে বাংলাদেশ যুব অধিকার পরিষদ। উক্ত সভায় সীমান্তে বাংলাদেশী নাগরিক হত্যা ও বাংলাদেশের আভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে ভারতের হস্তক্ষেপের সমালোচনা করেন বক্তারা।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে গণঅধিকার পরিষদের আহবায়ক কর্নেল অব: মিয়া মশিউজ্জামান বলেন, একজন সাবেক সেনা কর্মকর্তা ও বর্ডার গার্ডে দায়িত্বশীল থাকা অবস্থায় আমি দেখেছি কিভাবে ভারত বাংলাদেশের সীমান্তকে নিজেদের মনে করে ব্যবহার করে এবং বাংলাদেশের নাগরিকদের ঠুনকো অযুহাতে গুলি করে হত্যা করে। আমরা বাংলাদেশের সাথে ভারতের এই মাফিয়া আচরণের নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। আমরা ভারতের সাথে যুদ্ধ নয় ভারতীয় পণ্য বর্জন আন্দোলনের মাধ্যমে বাংলাদেশের জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করে ভারতীয় আগ্রাসনকে চিরতরে বাংলাদেশের মাটি থেকে উৎখাত করে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বকে পুন:প্রতিষ্ঠা করবো ইনশা আল্লাহ।

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ যুব অধিকার পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা আহবায়ক (সাবেক) ও গণ অধিকার পরিষদের সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব মো: আতাউল্লাহ বলেন, আমাদের স্পস্ট কথা ভারত বাংলাদেশের উপর কর্তৃত্ব চালাতে পারবে না। আমরা স্বাধীন রাষ্ট্র, আমরা আমাদের মত করে আমাদের দেশ ও তার নীতি নির্ধারণ করবো। বাংলাদেশের যুব সমাজ বাংলাদেশে কোন ভিনদেশের তাবেদারী মেনে নেবেনা। ভারত সহ সকল বিদেশী আগ্রাসনের বিরুদ্ধে আমাদের শক্ত অবস্থান সব সময় থাকবে।

বাংলাদেশ যুব অধিকার পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য সচিব (সাবেক) ও রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের রাজনৈতিক সমন্বয়ক ফরিদুল হক বলেন, একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্রের নাগরিকদেরকে সীমান্তে নির্বিচারে হত্যা করাটা অত্যন্ত গর্হিত কাজ। ভারতের কর্তৃত্ববাদী আচরণের কারণে বাংলাদেশে ভারতীয় পণ্য বয়কটের ডাক এসেছে। এ পণ্য বর্জন আন্দোলন ভারতীয় জনগণের বিরুদ্ধে নয়। এটি ভারত রাষ্ট্রের বাংলাদেশ শোষণ নীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ।

বাংলাদেশ যুব অধিকার পরিষদের আহবায়ক সাকিব হোসাইন বলেন,
বাংলাদেশ যুব অধিকার পরিষদ একটি আগ্রাসন বিরোধী রাজনৈতিক যুব সংগঠন। সংগঠনটির প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই সকল প্রকার বিদেশী আগ্রাসনের বিরুদ্ধে রাজপথে সোচ্চার রয়েছে সংগঠনটি। বিশেষ করে ভারত কর্তৃক বাংলাদেশের উপর যে নিপীড়ন অব্যাহত রয়েছে তার প্রতিবাদে ইতোমধ্যে ভারতীয় দূতাবাস ঘেরাও কর্মসূচী ও মোদি বিরোধী আন্দোলন করেছি আমরা। ভারতীয় আগ্রাসনের প্রতিবাদ করতে গিয়ে বাংলাদেশের ভারতের তাবেদার সরকারের রোষানলে পরে আমাদের ৫৪ জন নেতা কর্মী বিভিন্ন মেয়াদে কারাবরণ করেছেন। বর্তমানে ভারতীয় পণ্য বর্জন আন্দোলনের মধ্য দিয়ে আগ্রাসন বিরোধী অবস্থান বজায় রেখেছে সংগঠনটি। বাংলাদেশ প্রশ্নে ভারত প্রতিবেশী সুলভ রাষ্ট্রনীতি অবলম্বন না করা পর্যন্ত ভারতীয় আগ্রাসন বিরোধী অবস্থানে অনড় থাকবে বাংলাদেশ যুব অধিকার পরিষদ।

বাংলাদেশ যুব অধিকার পরিষদের সদস্য সচিব সোহেল মৃধার সঞ্চালনায় আলোচনা সভা ও ইফতার মাহফিলে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন গণঅধিকার পরিষদের সদস্য সচিব জনাব ফারুক হাসান।
এছাড়া উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ছাত্র, যুব,গণ অধিকার পরিষদ সহ বিভিন্ন যুব সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।